বিজ্ঞানীরা কান্না কে গভীর আবেগ প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে মান্যতা দিয়েছেন। যদিও এই মাধ্যম মানুষের কোনও দুর্বলতা নয়। বরং এই কান্না বরাবরই মানুষের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এসেছে। তাই কান্না র পর অনেক সময় নিজেকে হালকা বা শান্ত অনুভব করা যায়।

মেয়েদের বরাবরই ‘ছিঁচকাঁদুনে’ বলে উপহাস করা হয়ে থাকে। কারণ তারা অল্পতেই চোখের জল প্রকাশ করে কান্নায় নিজেদের ভিজিয়ে ফেলতে পারে। অথচ ছেলেদের ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটে না। তারা অতি জোরালো আঘাতকেও মাথা পেতে নিয়ে নিজের হৃদয়ের মধ্যে কান্না কে চেপে রেখে দিতে পারে দীর্ঘ সময় ধরে। কিন্তু এমনটি কেন?
আসলে, সুপ্রাচীনকাল থেকেই হাসির পাশাপাশি কান্না কে একটি আবেগ প্রকাশের লক্ষণ হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। মানুষের হৃদয় যখন খুশিতে ভরে ওঠে তখন তা প্রকাশ পায় তার হাসিতে। আবার সেই মানুষই যখন প্রচণ্ড দুঃখে বিগলিত হয়ে পরে, তখন তার প্রকাশ মাধ্যম হয়ে ওঠে কান্না। যা তার চোখের জলে প্রমাণ রেখে যায়।
মানুষ সাধারণত তিনটি কারণে চোখের জল ঝরিয়ে তার এই কান্না কে প্রকাশ করে থাকে। –
(১) শারীরিক আঘাত জনিত কারণ – শরীরে কোথাও জোরালো আঘাত পেলে মানুষ অনেক সময় তা কান্না র মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে।
(২) মানসিক আঘাত জনিত কারণ – শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি, মানুষ যখন কোনও মানসিক গভীর আঘাতে জর্জরিত হয়ে ওঠে। তখন তার হৃদয়ে জেগে ওঠে শোকের লক্ষণ। সেই শোক যখন কোনও কারণে গভীর হয়ে ওঠে, তখন তা প্রকাশ পায় কান্না র মাধ্যমে।
(৩) গভীর আবেগ জনিত কারণ – মানুষ যখন অত্যন্ত গভীর আবেগে জড়িয়ে পড়ে (সেটা কোনও সুখ, আনন্দ বা খুশিও হতে পারে), তখনও তার চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে কান্না প্রকাশ পেতে পারে।
তাই বিজ্ঞানীরা কান্না কে গভীর আবেগ প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে মান্যতা দিয়েছেন। যদিও এই মাধ্যম মানুষের কোনও দুর্বলতা নয়। বরং এই কান্না বরাবরই মানুষের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এসেছে। তাই কান্না র পর অনেক সময় নিজেকে হালকা বা শান্ত অনুভব করা যায়।
তবে প্রায় ক্ষেত্রে দেখা যায়, ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা অতি দ্রুত কান্না প্রকাশ করে ফেলতে পারে। কিন্তু কেন? এরও অনেকগুলি কারণ থাকতে পারে।
(১) হরমোনের প্রভাব – বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখলে বুঝতে পারা যাবে, প্রাথমিক অবস্থায় কান্না কে নিয়ন্ত্রণ করে Prolactin নামক এক ধরণের হরমোন। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের শরীরে এই হরমোনের পরিমাণ থাকে অনেকটাই বেশি।
(২) সামাজিক বা পারিবারিক শিক্ষা – ছোট থেকেই মেয়েদের আবেগ প্রকাশ করতে কোনও রকম বাধা দেওয়া হয় না। কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব দেখানো হয়। এই যেমন, ‘ছেলেদের কাঁদতে নেই’। এই শিক্ষা কালক্রমে ছেলেদের কান্না র ক্ষেত্রে সচেতন করে তোলে। মেয়েদের অবাধ স্বাধীনতা থাকে।
(৩) আবেগ প্রকাশের ধরণ – আবেগ কারও বেশি, আবার কারও কম। মেয়েদের ক্ষেত্রে আবেগ অতি দ্রুত প্রকাশ পেয়ে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়।
(৪) মানসিক চাপ – মানসিক চাপ নেওয়ার ক্ষমতা সবার সমান নাও থাকতে পারে। যার কম, তার ক্ষেত্রে কান্না প্রকাশ পায় বেশি।
তবে এটা ভুলে গেলে একেবারেই চলবে না যে, ছেলে বা মেয়ে উভয়ই শিশু অবস্থায় সমানভাবে কান্না র জগতে ছিল। পরে ধীরে ধীরে ছেলেরা নিজের গভীর আবেগকে লুকাতে শিখেছে। তাই তারা মেয়েদের তুলনায় কম কান্না প্রকাশ করে থাকে। তাই মানে কান্না কিন্তু শরীরের কোনও দুর্বলতা নয়। বরং মানবিকতার ভাষা। যে এই মানবিকতাকে যতটা বেশি অনুভব করতে পারবে, তার কান্না কত বেশি হবে।


