Sunday, July 14, 2024

পুরীর রথযাত্রা সম্পর্কে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

বিভিন্ন সময়ে পুরীর জগন্নাথ মন্দির আক্রমণ ও লুণ্ঠিত হয়েছে। সেই সময় রথযাত্রাও বন্ধ থাকে সাময়িকভাবে। ১৫৬৮ থেকে ১৫৭৭ সাল কালাপাহাড়, ১৬০১ সালে মির্জা খুররাম, ১৬০৭ সালে কাসিম খান জুইনি, ১৬১১ ও ১৬১৭ সালে কল্যাণ মল, ১৬২১ থেকে ১৬২২ সালে আহমেদ বেগ, ১৭৩১ সালে মহম্মদ তাকি আক্রমণ চালায় জগন্নাথ মন্দিরে। এই সময়ে কোনও রথযাত্রা হয়নি এখানে।


Image by Wikimedia Commons

জনদর্পণ ডেস্ক : আজ রথযাত্রা। পুরী সহ প্রায় সমগ্র বিশ্ব জুড়ে রথের দড়িতে টান পড়েছে আজ। এক সময় ওড়িশা, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এই রথযাত্রা। তবে বর্তমানে ইস্কন মন্দিরের উদ্যোগে এখন প্রায় সমগ্র বিশ্বের বড় বড় শহরগুলিতেই পালিত হয় হিন্দুদের এই অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব।

তবে রথযাত্রা উৎসবের সূচনা যে ওড়িশা রাজ্যের পুরীর জগন্নাথ মন্দির থেকেই হয়েছে, তাতে দ্বিমত থাকার কোনও কারণ নেই। অন্তত রথযাত্রা র ইতিহাস তেমন কথায় বলছে। প্রায় বারো শতকেরও পূর্ব থেকেই এই রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে। মাঝের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে একাধিকবার অবশ্য রথযাত্রা বন্ধ ছিল সেখানে। আসুন জেনে নেওয়া যাক আটশো বছরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের শিলালিপি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, দশম শতকের পূর্বে আদি জগন্নাথ মন্দিরের নির্মাণকার্য শুরু করেছিলেন আবন্তির সোমবংশের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। বর্তমান জগন্নাথ মন্দিরটির নির্মাণকার্য অবশ্য ১১১২ সালের পর শুরু করেছিলেন পূর্ব গঙ্গা রাজবংশের রাজা অনন্তবর্মণ চোদাগঙ্গা। ১২২৬ সাল নাগাদ এই মন্দিরের নির্মাণকার্য শেষ করেছিলেন তার পুত্র অনঙ্গভীমা। ধরে নেওয়া হয় প্রায় এই সময় থেকেই রথযাত্রা রও সূচনা হয় এখানে। তবে এ নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে পুরীর জগন্নাথ মন্দির আক্রমণ ও লুণ্ঠিত হয়েছে। সেই সময় রথযাত্রাও বন্ধ থাকে সাময়িকভাবে। ১৫৬৮ থেকে ১৫৭৭ সাল কালাপাহাড়, ১৬০১ সালে মির্জা খুররাম, ১৬০৭ সালে কাসিম খান জুইনি, ১৬১১ ও ১৬১৭ সালে কল্যাণ মল, ১৬২১ থেকে ১৬২২ সালে আহমেদ বেগ, ১৭৩১ সালে মহম্মদ তাকি আক্রমণ চালায় জগন্নাথ মন্দিরে। এই সময়ে কোনও রথযাত্রা হয়নি এখানে।

এছাড়াও ১৬৯২ সাল থেকে পুরীর জগন্নাথ মন্দির বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব। এই সময় রথযাত্রা সাময়িক বন্ধ থাকে। তার মৃত্যুর পর ১৭০৭ সাল থেকে পুনরায় মন্দির উন্মুক্ত হলে রথযাত্রা আবার শুরু হয়। তবে বলা বাহুল্য, যতবার মন্দির লুণ্ঠিত হয়েছে প্রতিবারই মন্দিরের বিগ্রহ পূর্ব থেকেই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অন্যত্র।

মূল মন্দিরের মোট চারটি দ্বার বিদ্যমান। উত্তর দ্বার বা হস্তীদ্বার, দক্ষিণ দ্বার বা অশ্বদ্বার, পূর্ব দ্বার বা সিংহদ্বার ও পশ্চিম দ্বার বা ব্রাঘ্রদ্বার।

রথযাত্রা র দিন মোট তিনটি রথ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। সবার প্রথমে থাকে ভগবান বলরামের রথ। এর নাম তালধ্বজা বা লাঙলধ্বজা। রঙ লাল ও নীলাভ সবুজ। ঘোড়ার রঙ কালো। চাকার সংখ্যা ১৪। এই রথের উচ্চতা ৪৩ ফুট ৩ ইঞ্চি।

মাঝে থাকে সুভদ্রা দেবীর রথ। এর নাম দর্পদলানা বা দেবদলন। রঙ লাল ও কালো। ঘোড়ার রঙ লাল। চাকার সংখ্যা ১২। এই রথের উচ্চতা ৪২ ফুট ৩ ইঞ্চি।

সবার শেষে থাকে ভগবান জগন্নাথের নন্দিঘোষা বা গড়ুরধ্বজ রথ। এই রথের রঙ লাল ও হলুদ। ঘোড়ার রঙ সাদা। চাকার সংখ্যা ১৬। এর উচ্চতা ৪৪ ফুট ২ ইঞ্চি।

রথযাত্রা র এই রথগুলি প্রতি বছরই নতুন করে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের সময় ব্যবহার করা হয় ফাসি, ধউসা প্রভৃতি নির্দিষ্ট গাছের কাঠ।

এই রকম আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সাম্প্রতিক খবর