SRI পদ্ধতির ধান চাষে ভালো ফলনের সম্ভাবনা : আশায় বুক বাধছেন চাষিরা

Advertisement
ছোটনাগপুর মালভূমির বর্ধিষ্ণু অংশ বিশেষ রাজনগর অঞ্চলের মানুষদের মূল জীবিকা হল কৃষিকাজ। এলাকাটি মূলত শুষ্ক ও খরা প্রবণ। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে এই অঞ্চলের সেচ ও নিকাশী ব্যাবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। সেই সঙ্গে এবার যুক্ত হল ‘শ্রী’ পদ্ধতিতে ধান চাষ। এই পদ্ধতিতে কম খরচে, কম জলে অত্যন্ত ভালো ফলন পাওয়া যায়। – ছবি : জনদর্পণ প্রতিনিধি

farmers of Rajnagar are full of hope
SRI পদ্ধতির ধান চাষে ভালো ফলনের সম্ভাবনা : আশায় বুক বাধছেন চাষিরা 2

অরবিন্দ মালি : রাজনগর, বীরভূমের এক প্রান্তীয় গ্রামীণ অঞ্চল। এক সময়ে এই রাজনগর বীরভূমের রাজধানী হিসাবে পরিচিত ছিল। ছোটনাগপুর মালভূমির বর্ধিষ্ণু অংশ বিশেষ এই অঞ্চলের মানুষদের মূল জীবিকা হল কৃষিকাজ। এলাকাটি মূলত শুষ্ক ও খরা প্রবণ। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে এই অঞ্চলের সেচ ও নিকাশী ব্যাবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। সেই সঙ্গে কৃষি উৎপাদনে বৃদ্ধি, কৃষি প্রযুক্তির উন্নতি ও বৃষ্টির প্রতি নির্ভরশীলতা অনেক অংশে হ্রাস পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জল সম্পদ উন্নয়ন ও অনুসন্ধান বিভাগের ক্ষুদ্র সেচের ত্বরান্বিত প্রকল্প “আদমী” এই উন্নয়নের মূল কাণ্ডারী। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেচ পরিকাঠামোর উন্নয়ন, কৃষকদের অত্যধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, জল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, মোবাইল-এর মাধ্যমে কৃষি সমস্যার সমাধান প্রভৃতি বিষয়ে কৃষকদের পরিষেবা দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে ‘The System of Rice Intensification’ (SRI বা শ্রী) পদ্ধতিতে ধান চাষ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে। এই পদ্ধতিতে কম খরচে, কম জলে অত্যন্ত ভালো ফলন পাওয়া যায়। এই পদ্ধতির ধান চাষ বিষয়ে পকল্প থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ দেওয়া হয়। এবছর রাজনগর ব্লকে আনুমানিক ১৫০-২০০ একর জমিতে ‘শ্রী’ পদ্ধতির দ্বারা ধান চাষ করা হয়েছে এবং ভালো বর্ষার দরুন ব্যাপক ফলনের আশা করছেন চাষীরা। এই নতুন পদ্ধতিতে ধান চাষ করে চাষীরা বেশ খুশি এবং আগামী বছরে আরও বেশি জমিতে এই পদ্ধতির দ্বারা ধান চাষ তাঁরা করবে বলে মত ব্যক্ত করেছেন।

এ বিষয়ে ‘আদমী’ প্রকল্পের সহায়ক সংস্থার কৃষি বিশেষজ্ঞ বরুণ বাবু জানালেন, “এখানকার চাষীদের মধ্যে উৎসাহের কোনও অভাব নেই। তাঁরা প্রথম দিকে গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে নতুন পদ্ধতিতে ধান চাষ করতে শঙ্কা বোধ করলেও তাঁরা তা করে দেখিয়েছেন। আমাদের কাজ এখানেই শেষ নয়, আগামী দিনে আরও উন্নত প্রযুক্তির দ্বারা চাষীদের আয় বৃদ্ধিই হল আমাদের মূল লক্ষ।”

Advertisement
Previous articleকর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখেই উদ্বোধন হল রাইস মিল
Next articleবাংলায় যেভাবে জমিদার বাড়িতে শুরু হল মা দুর্গার আরাধনা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here