সমগ্র পৃথিবী জুড়ে শত শত প্রজাতির বাদাম বা বাদাম জাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে। তবে সব বাদাম খাওয়ার উপযুক্ত নয়। এর মধ্যে মাত্র ১০-১২ ধরণের বাদাম খাওয়ার উপযুক্ত। কিছু উদ্ভিদের বীজ দেখতে অনেকটা বাদামের মতোই, মানুষের কাছে যেগুলি বাদাম হিসেবেই পরিচিত, সেগুলি আসলে বাদাম নয়।

বঙ্গদেশে ‘টাইমপাস’-এর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার যে বাদাম, তাতে দ্বিমত থাকার কোনও কারণ নেই। সিনেমা হল, মেলা বা সন্ধ্যার আড্ডার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে এখন জড়িয়ে গিয়েছে বাদাম নামের এই ছোট্ট খাদ্যবস্তুটির নাম।
আর আদাম বললেই সবার প্রথমে চোখে ভেসে ওঠে চিনাবাদামের ছবি। একটি নরম খোলার মধ্যে দুটি বা তিনটি দানা সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকে। দুই আঙুলের সামান্য চাপে খোলাটি ফাটিয়ে ভিতরের বাদাম দানা বের করে নিতে হয়। তারপর মুখে পুরে দাঁতে পেষায় করতে কার না ভাল লাগে। এরই সঙ্গে একটু বিট লবণ হলে তো কোনও কথায় নেই।
তবে মজার ব্যাপার, চিনাবাদামকে আমরা যতই বাদাম হিসেবে জানি, তা আসলে বাদামই নয়। অন্তত উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা এমনটাই দাবি করছেন। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, চিনাবাদাম আসলে শিম জাতীয় বীজ। তবে শুধু চিনাবাদাম নয়, জনপ্রিয় আরও কতকগুলি খাদ্যবস্তু বাদাম হিসেবে পরিচিত থাকলেও, সেগুলি বৈজ্ঞানিকভাবে কখনওই বাদাম নয়। তাহলে আসল বাদাম কোনগুলি? আসুন জেনে নেওয়া যাক বৈজ্ঞানিকভাবে কোনগুলি বাদাম, আর কোনগুলি বাদাম নয়।
সমগ্র পৃথিবী জুড়ে শত শত প্রজাতির বাদাম বা বাদাম জাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে। তবে সব বাদাম খাওয়ার উপযুক্ত নয়। এর মধ্যে মাত্র ১০-১২ ধরণের বাদাম খাওয়ার উপযুক্ত। কিছু উদ্ভিদের বীজ দেখতে অনেকটা বাদামের মতোই, মানুষের কাছে যেগুলি বাদাম হিসেবেই পরিচিত, সেগুলি আসলে বাদাম নয়। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা এগুলিকে বাদাম জাতীয় উদ্ভিদের মধ্যে রাখেননি। তার মধ্যে চিনাবাদাম (শিম জাতীয় বীজ), কাজুবাদাম (ফলের বীজ), পিস্তাবাদাম (বীজ), ম্যাকাদেমিয়া বাদাম (ফলের বীজ), তান্দুল বাদাম (গাছের কন্দ) অন্যতম। বলা বাহুল্য, খোলা বাজারে এগুলির মূল্য আসল বাদামের তুলনায় অনেকটাই কম।
আসল বাদাম বলতে বিজ্ঞানীরা বুঝিয়েছেন, আখরোট, কাঠবাদাম, পেকান, হ্যাজেল নাট, পাইন নাট, ব্রাজিল নাট, ওকে অ্যাকর্ণ, চেস্টনাট প্রভৃতিকে। এগুলির প্রায় সবগুলিকেই ফলের ভিতর থেকে বের করে নিতে হয়। খোলা বাজারে এগুলির মূল্য তুলনামূলক বেশি। কারণ নির্দিষ্ট অঞ্চল ছাড়া এগুলিকে প্রায় উৎপন্ন হতে দেখা যায় না।