গবেষণায় উঠে এসেছে, মানুষের সৃষ্ট বিভিন্ন শব্দে ব্যাহত হচ্ছে পাখি দের জীবনযাত্রা। পাখি রা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পরিচালনার জন্য নিজেরা বিভিন্ন শব্দ করে থাকে। এই শব্দের ফলে তাদের শিকার ধরা, আক্রমণ থেকে রক্ষা, নিজের অবস্থান নির্বাচন, পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ, এমনকি প্রজননের জন্য সঙ্গী নির্বাচনও সংগঠিত হয়।

এক সময় ভারত বা বাংলার আকাশে ব্যাপক হারে উড়ে বেড়াতে দেখা যেত পিঙ্ক হেডেড ডাক, হিমালয়ান কোয়েল বা সরস ক্রেনদের। কিন্তু গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের পর তাদের আর দেখাই যায় না কোথাও।
এদিকে গ্রেট ইণ্ডিয়ান বাস্টার্ড, বেঙ্গাল ফ্লোরিকান, রেড হেডেড ভালচার বা হোয়াইট রেম্পেড ভালচাররাও ক্রমশ বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এই বিলুপ্তির সবচেয়ে বড় কারণ মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপ। এই সমস্ত কার্যকলাপের মধ্যে অন্যতম শিকার বা পাখি দের আবাসস্থল ভেঙে দেওয়াকে উল্লেখ করেছেন পাখি বিশেষজ্ঞরা।
এবার নতুন আর একটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা, আর তাহল মানুষের সৃষ্ট বিভিন্ন ‘শব্দ দূষণ’। এই শব্দ দূষণের জন্যেই ব্যাহত হচ্ছে পাখি দের দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। নষ্ট হচ্ছে তাদের আবাসস্থল। আর এর ফলে অনেক বড় প্রভাব পড়ছে তাদের প্রজনন ক্ষমতায়। ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে পাখি দের সংখ্যা।
সম্প্রতি এমনই একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি সাময়িকীতে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেছেন। যার নেতৃত্বে ছিলেন নাতালি ম্যাদেল।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, তাঁরা ১৯৯০ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রকাশিত প্রায় ১৬০ ধরণের পাখি র প্রজাতি বিষয়ক গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করেছেন। এই বিশ্লেষণে সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে বড় আকারের পাখি র সংখ্যা। এই বিশ্লেষণে তাঁরা এই সমস্ত পাখি র আচরণ বোঝার চেষ্টা করেছেন।
গবেষণায় উঠে এসেছে, মানুষের সৃষ্ট বিভিন্ন শব্দে ব্যাহত হচ্ছে পাখি দের জীবনযাত্রা। পাখি রা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পরিচালনার জন্য নিজেরা বিভিন্ন শব্দ করে থাকে। এই শব্দের ফলে তাদের শিকার ধরা, আক্রমণ থেকে রক্ষা, নিজের অবস্থান নির্বাচন, পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ, এমনকি প্রজননের জন্য সঙ্গী নির্বাচনও সংগঠিত হয়।
কিন্তু শব্দ দূষণের ফলে পাখি দের এই সমস্ত স্বাভাবিক কার্যকলাপে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাখি দের দৈনন্দিন শব্দ ক্রমশ চাপা পড়ে যাচ্ছে শব্দ দূষণের কারণে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, মানুষের শোরগোলে পাখি রা ঠিকমতো তার সঙ্গীর কাছে নিজেদের সংকেত পাঠাতে পারছে না। শিশুরাও তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছে না। ফলে স্বাভাবিক প্রজননের হার কমে যাচ্ছে পাখি দের।


