বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস এর এই অনুষ্ঠানটি শুধুই একটি দিনের কার্যক্রম ছিল না, বরং এটি ছিল নারীদের ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অংশগ্রহণকারীরা শুধু নতুন কিছু শিখে ফিরে যাননি, বরং তারা ফিরে গিয়েছেন আরও আত্মবিশ্বাসী, আরও সচেতন এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও প্রস্তুত হয়ে।

হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ইন্ডিয়া এবং বেলস্টার মাইক্রোফাইন্যান্স-এর যৌথ উদ্যোগে জামালপুর শাখায় বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস উপলক্ষে একটি গঠনমূলক ও অনুপ্রেরণামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই বিশেষ দিনে অংশ নেন জামালপুর অঞ্চলের ২৬ জন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সক্রিয় মহিলা সদস্য, যাঁরা নিজেদের দক্ষতা উন্নয়ন, আর্থিক সচেতনতা এবং নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রকল্প সমন্বয়কারী শ্রেয়শ্রী পাল এক উদ্বোধনী ভাষণের মাধ্যমে নারীদের জীবনে দক্ষতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি সদস্যাদের অভ্যর্থনা জানান এবং একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য এক আন্তরিক ও প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করেন।
এরপর রিজিওনাল ট্রেনার শ্রীকান্ত গুঁই একটি কার্যকরী আর্থিক ও ডিজিটাল সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা এখানে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় আর্থিক জ্ঞান, মোবাইল লেনদেন এবং অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর শাখার শাখা ব্যবস্থাপক সৌরভ ঘোষ এবং অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রসেনজিৎ বিশ্বাস। তাঁরা ব্যাংকিং পরিষেবা, ঋণ গ্রহণের পদ্ধতি, বীমার সুবিধা এবং পুনঃপরিশোধ সংক্রান্ত নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাদের বক্তব্য ও খোলামেলা প্রশ্নোত্তর পর্ব সদস্যদের মধ্যে আরও স্বচ্ছতা এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি করে।
আনন্দের মুহূর্ত তৈরি হয় ক্যান্ডেল লাইট খেলার সময়, যেখানে সদস্যরা দলগতভাবে অংশ নেন। এই খেলার মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে সহযোগিতা ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ইন্ডিয়া-র টিম সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সম্মাননা জানানো হয় পাঁচজন শ্রেষ্ঠ বেলস্টার গ্রাহককে, যাঁদের ধারাবাহিক সাফল্য ও দায়িত্বশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে তুলে ধরা হয়। এই সম্মাননা অন্য সদস্যাদের মধ্যেও উৎসাহ, অনুপ্রেরণা এবং নেতৃত্ব গঠনের বীজ বপন করে।
বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস এর এই অনুষ্ঠানটি শুধুই একটি দিনের কার্যক্রম ছিল না, বরং এটি ছিল নারীদের ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অংশগ্রহণকারীরা শুধু নতুন কিছু শিখে ফিরে যাননি, বরং তারা ফিরে গিয়েছেন আরও আত্মবিশ্বাসী, আরও সচেতন এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও প্রস্তুত হয়ে।
এই ধরণের উদ্যোগ গ্রামীণ নারীদের জীবনে নতুন দিগন্তের সূচনা করে, যেখানে প্রতিটি নারী নিজের সম্ভাবনাকে চিনে নিতে পারেন এবং সমাজে আত্মনির্ভরশীল ভূমিকা রাখতে পারেন।